শেখ হাসিনার ফাঁশির রায় কতটা যোক্তিক?

সোমবার (১৭ নভেম্বর, ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার রায় ঘোষণার পর থেকেই দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর যৌক্তিকতা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ। এই রায়কে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকমন পতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ পতিক্রিয়া ঘিরে রয়েছে রায়ের যোক্তিকতা নিয়ে। চলুন নিচে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক, কে কীভাবে এই রায়কে গ্রহণ করেছেন। 

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: রায় ঘোষণার পরপরই ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা এই রায়কে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে রায়টি 'অগণতান্ত্রিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি 'কারচুপিপূর্ণ ট্রাইব্যুনাল'-এর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, যা তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।

বিচারের মানদণ্ড: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে এর অনুপস্থিতিতে বিচার (in absentia trial) এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে মনে করা হয়। যদিও ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার সময় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তবুও এটি ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে তাদের মত।

নিয়ন্ত্রণ হারানোর দাবি: শেখ হাসিনা স্বীকার করেছেন যে সেই সময় সরকার পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তবে এটিকে নাগরিকদের উপর 'পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ' হিসাবে আখ্যায়িত করা ভুল বলে তিনি দাবি করেন।

আপিল এবং আত্মসমর্পণের শর্ত: ট্রাইব্যুনালের নিয়ম অনুযায়ী, পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তিনি আপিল করতে পারবেন না। তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ এই রায়কে 'তামাশা ও অর্থহীন' বলে মন্তব্য করেছেন এবং দাবি করেছেন যে একবার আইনের শাসন ফিরে এলে ত্রুটিপূর্ণ এই বিচার চ্যালেঞ্জে টিকবে না।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া মিশ্র এবং সতর্কতামূলক।

  • জাতিসংঘের অবস্থান: জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এই রায়কে 'ভুক্তভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে তারা মৃত্যুদণ্ড আরোপের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন যে তারা 'সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেন', যদিও তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ভারতের ভূমিকা: ভারত, যেখানে শেখ হাসিনা বর্তমানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন, এই রায়কে 'প্রত্যক্ষ করেছে' বলে জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে 'ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ—শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা—অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' এবং তারা এই লক্ষ্য অর্জনে 'গঠনমূলকভাবে' কাজ করবে।

    • এই মন্তব্যের পর, বাংলাদেশ সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দ্রুত হস্তান্তরের জন্য নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেহেতু এই অপরাধকে 'রাজনৈতিক চরিত্রের' বলে গণ্য করা হতে পারে, তাই প্রত্যর্পণের বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল হবে এবং ভারত সহজে তাকে হস্তান্তর করবে না।

  • আন্তর্জাতিক মেরুকরণ: আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় বাংলাদেশকে আরও বেশি মেরুকরণ করবে। একদিকে যারা স্বৈরাচারী শাসনের পর জবাবদিহিতার একমাত্র পথ হিসেবে এই রায়কে দেখছেন এবং অন্যদিকে যারা মনে করেন মৃত্যুদণ্ড ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং জাতীয় পুনর্মিলন অপরিহার্য, তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবেন।

বিচারের প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডের প্রশ্ন

সবচেয়ে জোরালো সমালোচনাটি এসেছে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে।

  • অনুপস্থিতিতে বিচার (In Absentia Trial):

    • যুক্তি: ট্রাইব্যুনালের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এই বিচার সম্পন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনবিদরা প্রায়শই অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ন্যায্য বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করেন। তাদের মতে, অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হয়নি।

  • আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন:

    • যুক্তি: শেখ হাসিনা এবং তার দল এই ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এটি 'অগণতান্ত্রিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি 'কারচুপিপূর্ণ' বিচার ব্যবস্থা, যার লক্ষ্যই হলো তাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া।

  • স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব:

    • হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)-এর অবস্থান: যদিও HRW সরাসরি এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর মন্তব্য করেনি, তারা বহু আগে থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল, বিশেষ করে সাক্ষী সুরক্ষা, আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া এবং ট্রাইব্যুনালের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাদের মতে, এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় বিচারের মানদণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নাতীত হওয়া উচিত, যা এক্ষেত্রে হয়নি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার অভিযোগ

  • শেখ হাসিনার সরাসরি অভিযোগ:

    • রায় ঘোষণার পর ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা তীব্রভাবে এই রায় প্রত্যাখ্যান করে এটিকে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিক জীবন থেকে মুছে দিতে এবং সদ্য ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।

  • পরিবারের মন্তব্য:

    • তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ এই রায়কে 'তামাশা ও অর্থহীন' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে এটি একটি প্রতিশোধমূলক রায় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে এই ত্রুটিপূর্ণ বিচারকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে, যেখানে এটি টিকবে না

  • বিদেশি বিশ্লেষকদের উদ্বেগ:

    • আটলান্টিক কাউন্সিলের মতো থিংক ট্যাংকগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই ধরনের রায় কেবল প্রতিহিংসামূলক রাজনীতিকে উৎসাহিত করবে, যা দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করবে এবং জাতীয় পুনর্মিলনের পথ বন্ধ করে দেবে।

মৃত্যুদণ্ড আরোপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক মহলের সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে রায়ের দণ্ডটির প্রকৃতি নিয়ে।

  • জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের অবস্থান:

    • জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তারা 'সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেন'

    • যদিও তারা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার গুরুত্বকে স্বীকার করেছেন, কিন্তু তারা এই ধরনের গুরুতর শাস্তি আরোপের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের অবস্থান হলো, বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চললেও, রাষ্ট্র যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আরোপ না করে।

  • মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাধারণ অবস্থান:

    • অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনি সংস্থা সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি হলো, মৃত্যুদণ্ড হলো অপরিবর্তনশীল (irreversible), এবং যেহেতু এই ধরনের রাজনৈতিক মামলার বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া মারাত্মক ভুল হতে পারে।

ভারতের কৌশলী অবস্থান

ভারত, যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, তারা সরাসরি রায়কে অবৈধ না বললেও তাদের মন্তব্য যথেষ্ট কৌশলী এবং শেখ হাসিনার পক্ষে তাদের সমর্থনকে তুলে ধরে:

  • গঠনমূলক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু এই রায়কে 'প্রত্যক্ষ করেছে' বলে জানিয়েছে। তারা আরও বলেছে যে তারা বাংলাদেশের জনগণের 'শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা' অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে 'গঠনমূলকভাবে' কাজ করবে।

  • প্রত্যর্পণে জটিলতা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রত্যর্পণ করা একটি অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ভারত সম্ভবত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক চরিত্র এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের দিকটি বিবেচনা করে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে তাকে সহজে হস্তান্তর করবে না, যা প্রকারান্তরে রায়টির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সংগঠন

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচারকে 'অন্যায্য' এবং 'আন্তর্জাতিক মানদণ্ডবিরোধী' বলে সরাসরি সমালোচনা করেছে:

  • অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International):

    • এই সংস্থা রায়টিকে 'অন্যায্য বা ন্যায়সঙ্গত নয়' বলে অভিহিত করেছে।

    • তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, "ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনকেই বাড়িয়ে তোলে।"

    • তারা ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতার অভাব এবং অনুপস্থিতিতে বিচারের অভূতপূর্ব গতি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা ন্যায়বিচারের গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

  • জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় (UN Human Rights Office - OHCHR):

    • জাতিসংঘ এই রায়টিকে 'গুরুতর লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করলেও মৃত্যুদণ্ড আরোপের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

    • জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, "আমরা সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করি।"

    • তারা আরও বলেছে, অনুপস্থিতিতে বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

  • হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch - HRW):

    • এই সংস্থাটি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে তাদের পূর্বের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করেছে। তারা বলেছে, কিছু পরিবর্তন সত্ত্বেও আদালত ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।

    • HRW বাংলাদেশকে 'বিশ্বাসযোগ্য বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার' এবং 'মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করার' আহ্বান জানিয়েছে।

ব্যক্তি এবং দলগত সমালোচনা

  • শেখ হাসিনা ও তার দল (আওয়ামী লীগ):

    • স্বয়ং শেখ হাসিনা এই রায়কে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এটি একটি 'অগণতান্ত্রিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' দ্বারা প্রতিষ্ঠিত 'কারচুপিপূর্ণ ট্রাইব্যুনাল'

    • তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ রায়টিকে 'তামাশা ও অর্থহীন' বলে মন্তব্য করেছেন।

  • ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞ মহল:

    • ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রায়টিকে 'দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অশুভ' বলে মন্তব্য করেছেন।

    • প্রাক্তন হাই কমিশনার বীণা সিক্রি এই ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

    • আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই রায় বাংলাদেশকে আরও 'বিভেদমূলক' করে তুলবে।

দেশ (কূটনৈতিক অবস্থান)

কোনো দেশ সরাসরি এই রায়কে 'অবৈধ' ঘোষণা না করলেও, ভারত তাদের কৌশলী মন্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রতি তাদের সমর্থন এবং রায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

  • ভারত:

    • ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুধু জানিয়েছে যে তারা রায়টিকে 'প্রত্যক্ষ করেছে'

    • তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, "ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ—শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা—অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

    • এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও ভারত এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। ভারতের এই নীরবতা এবং কূটনীতিকদের উদ্বেগ প্রকারান্তরে রায়টির কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

পশ্চিমা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

এই সংবাদমাধ্যমগুলো প্রধানত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মন্তব্যকে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে:

  • আল জাজিরা (Al Jazeera):

    • তাদের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের অভিযোগ এবং রায়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'গুরুতর প্রভাব' ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    • তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার মুখপাত্রের মন্তব্যকে উদ্ধৃত করেছে, যিনি বলেছেন যে এই ধরনের বিচার আন্তর্জাতিক মানের ন্যায্যতা ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার আওতায় হওয়া উচিত, বিশেষত যখন তা অনুপস্থিতিতে এবং মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে করা হয়

  • বিবিসি (BBC):

    • তারা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হাসিনার অভিযোগ (রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো আদালত) এবং ভারতে তার অবস্থানজনিত কূটনৈতিক জটিলতা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।

    • জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আপত্তির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

  • দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian):

    • তারা সরাসরি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে উদ্ধৃত করেছে, যারা বলেছে এই রায়টি 'সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত কোনোটিই হয়নি'

    • সংবাদমাধ্যমটি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পুরনো সমালোচনা (যেমন ফেয়ার ট্রায়াল স্ট্যান্ডার্ডের অভাব) তুলে ধরেছে।

  • ডয়েচে ভেলে (Deutsche Welle - DW):

    • তারা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রতিক্রিয়া ছেপেছে, যিনি আদালতকে 'অবৈধ ও অসাংবিধানিক' বলে অভিহিত করেছেন।

    • বিচারিক প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতো বিশ্লেষকদের সমালোচনাও স্থান পেয়েছে।

ভারতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম

যেহেতু শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে আছেন, তাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কূটনৈতিক জটিলতা এবং রায়ের রাজনৈতিক দিকটি বিশ্লেষণ করেছে:

  • ইকোনমিক টাইমস (Economic Times) / টাইমস অফ ইন্ডিয়া (Times of India):

    • এদের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার মন্তব্য ('পক্ষপাতদুষ্ট', 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত', এবং 'অনির্বাচিত সরকারের সাজানো আদালত') সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

    • ভারতীয় বিশ্লেষক ও প্রাক্তন কূটনীতিকদের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এই বিচার 'রাজনৈতিক চরিত্রের' হওয়ায় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত তাকে ফেরত দিতে বাধ্য নয়, যা রায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

    • তারা আওয়ামী লীগের বক্তব্যও ছেপেছে, যেখানে রায়কে 'প্রতিহিংসার রাজনীতি' বলে অভিহিত করা হয়েছে।

  • আনন্দবাজার পত্রিকা (Anandabazar Patrika):

    • তারা শেখ হাসিনার লিখিত বিবৃতিকে প্রাধান্য দিয়েছে, যেখানে তিনি এই রায়কে 'অনির্বাচিত সরকারের সাজানো আদালতের রায়' এবং 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items