গত ২২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) সাম্প্রতিক বন্যায় আক্রান্তদের সাহায্যার্থে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু হয়। এই কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা তহবিলে জমা পড়ে।
তবে, সম্প্রতি দেখা গেছে যে, এই তহবিলের মধ্যে থেকে মাত্র ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বন্যার্তদের সহায়তায় ব্যয় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে যে, কেন এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে রাখা হয়েছে এবং কেন ত্রাণের টাকা বন্যার্তদের সহায়তায় খরচ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অভিযোগ তুলেছেন যে, তহবিলের অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কেউ কেউ অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তহবিলের সমস্ত অর্থের হিসাব তাদের কাছে রয়েছে এবং এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, টাকার সঠিক ব্যবহারের নিশ্চয়তার জন্য একটি অডিট সম্পন্ন হচ্ছে এবং শিগগিরই অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। ব্যাংকে রাখা অর্থ বিশেষভাবে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং এটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও যুক্ত রয়েছেন, যার সম্মিলিত সিগনেচার ছাড়া কোনো টাকাই তোলা সম্ভব নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন এলাকায় চলমান সভা-সমাবেশে তহবিলের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাবে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং এ জন্য তহবিলের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামীর কার্যক্রম ও খরচের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা নিরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করবেন এবং সকল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।
এদিকে, সাধারণ জনগণ তহবিলের টাকা ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ত্রাণ সহায়তার প্রকৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে চলেছেন।
